খবর, দুর্নীতি

বাকেরগঞ্জের কসাই ডাক্তার মনিরুজ্জামানের কেলেঙ্কারি

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১১:২০ এএম। অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম খানকে তুচ্ছ ঘটনায় গ্রেফতার করে সাজানো মামলায় জেল হাজতে প্রেরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রে মতে, ২৪ শে এপ্রিল রবিবার দুপুর আনুমানিক ১ঃ৩০ মিনিটের সময় পরিবারের সব সদস্য ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন এমনতবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা কালামের আরাই বছরের মাসুম বাচ্চা তাসকিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান ছাত্রলীগ নেতা খান কালাম।

বাচ্চার মা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় স্যালাইন রত অবস্থায় ছিলো হঠাৎ বাচ্চাটি দুই বার বমি এবং দুইবার পাতলা পায়খানা করে, বিছানায় ঢলে চোখ তারীয়ে পড়ে, বাচ্চার এ অবস্থা দেখে কিংকর্তব্য বিমূর্ত হয়ে তড়িঘড়ি করে বাচ্চাটিকে কাদের উপর নিয়ে দুপুরবেলা প্রচন্ড গরম ও লকডাউন উপেক্ষা করে, গাড়ি না পেয়ে,২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে তাড়াহুড়ো করে জরুরি বিভাগে ঢুকে পরেন বাচ্চা বাবা উপজেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খান আবুল কালাম।

তখন কর্তব্যরত ডাক্তার মনিরুজ্জামান খানের কাছে গিয়ে বিনিত অনুরোধ করেন,আমার বাচ্চাটিকে বাঁচান। কিন্তু কর্তব্যরত ডাক্তার বাচ্চাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমার দিকে তাকান আমি মাক্স পড়া আপনার ম্যাস্ক কই, ম্যস্ক পরে আসেন নি কেন? আগে সেটা বলেন তারপর আপনার বাচ্চার ভর্তি নেবো কি নেবো না সেটা পরে দেখা যাবে। বাচ্চাটিকে অন্য এক মহিলার কাছে দিয়ে বাহির থেকে মাস্ক কিনে ব্যাবহার করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন।

তখন ডাঃ মনিরুজ্জামান খান বাচ্চা টিকে ভর্তি নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এক পর্যায় ভর্তি নিতে না পারলে ক্যানোলা পরিয়ে দেবার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন বাচ্চার বাবা আবুল কালাম। কিন্তু তার কথায় কর্নপাত না করে নিজেকে নিয়ে ব্যস্থ হয়ে যান ডাক্তার। এহেন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে পরলে ঘটনার এক পর্যায় ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দিতে চেষ্টা চালালে ঘটনাটি হাতাহাতিতে গড়ায়।

পরবর্তীতে সেখানকার উপস্থিত সবাই ছুটে এলে। পরিস্থিতি, শান্ত হয়। এ সময়ে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে থাকা বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসফিকুর রহমান দোলন সহ সেচ্ছাসেবী সংগঠনে সদস্যরা,ডাক্তার মনিরুজ্জামান খান কে বুঝাতে চেষ্টা করে ।

বাকেগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ আকন একাধিক বার বুঝালেও ডাক্তার শুনতে নারাজ। সুত্রে জানাজায়, ছাত্র লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খান আবুল কালাম কে আটকের পরে ডাক্তার মনিরুজ্জামান খানের কাছে ছুটে জান আবুল কালামের সন্তান সহ অসুস্থ স্ত্রী, হাজারো বুঝিয়েও পাষণ্ড ডাক্তারের মন গলাতে পারেন-নি। তিনি তার কোন কথা শুনেনি। বাসস্ট্যান্ডে চা দোকানি আঃ ছালাম জানান আবুল কালাম কে বরিশালে নেয়ার পথে অসুস্থ সন্তানদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস এক হয়ে যায়,কেঁদেছে পথচারীরা।

স্থানীয় অনেকের মতে, এমন ঘটনা বাকেরগঞ্জ সর্বস্তরের মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থ হয়ে মানুষ চিকিৎসার জন্য একজন ডাক্তারের কাছে ছুটে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। হয়ত কালাম খান অসুস্থ সন্তানকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে আসতে গিয়ে মাস্ক ব্যবহার করতে সে ভুলে গেছেন।

কিন্তু একজন ডাক্তার বিষয়টি নমনীয় ভাবে মেনে না নিলে উল্টো মিথ্যে মামলায় অসুস্থ সন্তানের বাবা কে জেল হাজতে পাঠিয়ে অমানুষিক চিন্তা ভাবনার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার মনিরুজ্জামান খান। এমন ঘটনায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ ডক্টর মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।