খবর, রাজনীতি

বরিশাল গৌরনদী থানায় ইসরাককের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৮ এ এম। অনলাইন সংস্করণ

বরিশালে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনসহ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৫ নভেম্বর) রাতে গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় মামলাটি করা হয়। তবে মামলার বাদী হয়েছেন রাসেল রাঢ়ী। তিনি গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাহিলারা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শহীদ সরদার বলেন, শনিবার সকাল ৬টার দিকে আমরা ১০ থেকে ১২ জন মাহিলারা বাজারের সামনে রাস্তায় অবস্থান করছিলাম। এ সময় ৭০ থেকে ৭৫টি গাড়ির বহর এসে বাজারের সামনে মহাসড়কে থামে। তখন গাড়ি থেকে ক্যাডাররা নেমে বাজারে আওয়ামী লী‌গের দলীয় কার্যাল‌য়ে হামলা ও ভাংচুর করে। এ সময় বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সাতটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে। তারা মাহিলারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিলাস কবিরাজকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ ঘটনায় মামলাটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় পেনাল কোড ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় ইশরাক হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির নেতা বদিউজ্জামান মিন্টু, সজল সরকার ও জাফরসহ নামধারী ৭০ জন এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

খবর, রাজনীতি

ওবায়দুল কাদের বিএনপিতে যোগ দেবেন। রিজভী

প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৭ পিএম। অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেটাই বোঝা যাচ্ছে। এছারাও গোটা দেশকে ক্রিমিনাল স্টেটে পরিণত করেছে শেখ হাসিনা। তিনি যে সরকার পরিচালনা করছেন সেটা হচ্ছে অপরাধীদের সরকার। আজ শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিএনপির গণসমাবেশে বাধা দিচ্ছে। তারপরও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গতকাল থেকেই রংপুর জনসমাবেশে জনতার ঢল নামে। মানুষের যেন স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে রংপুর মহানগর। বিভিন্ন জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে মানুষ রংপুরে এসে মিলিত হয়েছে। মানুষ শুকনা খাবার রুটি চিড়া নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছে। এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মন্ত্রিসভার কিছু সিনিয়র সদস্য বিএনপির গণসমাবেশে জনতার এ স্রোত দেখে বিচলিত বোধ করছেন। এতে মনে হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিরোধী কথাই বলছে না বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন।

তিনি বলেন, দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জে ভাষণ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে আমরা যে বিবৃতি দিই তা শুধু আমাদের নয়, বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াও তাদের সমালোচনা করেছে। সেই সমালোচনাগুলোই পক্ষান্তরেই ওবায়দুল কাদের বলেছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন। শতকরা ৯০ ভাগ বলছে আর দশভাগ বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলছে; যেভাবে বলুক না কেনো মনে হয়েছে তিনি বিরোধী দলের কথাগুলোই বলছেন।

খবর, রাজনীতি

বিএনপিকে হেফাজতের মত দমন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ শে অক্টোবর ২০২২,০৬:২৫ পিএম। অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বিএনপি স্বাধীনভাবে মিছিল, মিটিং করতে পারছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলে আওয়ামী লীগ বাধা দেবে না। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা কিংবা হেফাজত ইসলামের মতো তাণ্ডব করলে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতকে যেভাবে দমন করা হয়েছে, বিএনপিকে সেভাবে দমন করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার সভায় বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা এমন বার্তা দেন। তাকে উদ্ধৃত করে বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আজকে স্বাধীনভাবে মিটিং করতে পারছে, মিছিলও করতে পারছে, সবই করতে পারছে। কিন্তু যে সমস্ত আসামি, যারা অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। রেল, বাস, গাড়ি, সিএনজি, লঞ্চে আগুন দিয়েছিল। কোনো জায়গা বাদ ছিল না। প্রত্যেক জায়গায় আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত। আমি জানি তারা অনেকেই লুকিয়ে ছিল। এখন বিএনপি মাঠে নেমেছে, তারা মাঠে নামবে। কিন্তু এই সমস্ত আসামিদের ধরতে হবে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’

উপস্থিত নেতারা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা পাস করাবেন এই ধারণা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। এবারের নির্বাচনে সবাইকে নিজের যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে। দলীয় এমপিদের এলাকায় কার কী অবস্থা, তা জানতে জরিপ চলছে জানিয়ে দলীয় সভাপতি বলেন, এমপিরা কর্মগুণে মনোনয়ন পাবেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসা এমপিরা নির্বাচন কী তা বোঝেন না, তাদের বুঝতে হবে।

দেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা গঠনতন্ত্র মেনে চলে উল্লেখ করে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরই মধ্যে অনেকগুলো জেলা হয়ে গেছে। কয়েকটি জেলাতো পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দিয়েছে। যেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে গেছে, সেখানে আমি জনসভা করব। পাশাপাশি আমি নেতা কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করব। সেটাও আমি প্ল্যান নিয়েছি। নভেম্বরের মাঝামাঝি বা ডিসেম্বর থেকে তা শুরু করব।’

আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলন সাদামাটাভাবে করা হবে উল্লেখ করে সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটিসহ উপকমিটি করার জন্য নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখি যেহেতু অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের দেশেও সেই অবস্থা। এবারের সম্মেলন আমরা শানশওকত করে করব না। খুব সীমিত আকারে অল্প খরচে সাদাসিধেভাবে আমাদের সম্মেলনটা করতে হবে।’ সম্মেলনের খরচ খুব সীমিত হয় এবং মানুষের কষ্ট না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

খবর, রাজনীতি

শেখ রাসেল; দীপ্ত জয়োল্লাস অদম্য আত্মবিশ্বাস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৪৯ এএম আপডেট: ১৮.১০.২০২২ ১:০১ এএম | অনলাইন সংস্করণ 

দীপ্ত জয়োল্লাস আর অদম্য আত্মবিশ্বাসে গৌরবান্বিত শেখ রাসেল। তোমার ৫৯তম জন্মদিনে এই বাংলাদেশ তোমাকে স্মরণ করছে। মায়াবী দুঃখের মুখ নিয়ে তোমার স্মৃতিঘেরা আঙিনাগুলো জেগে উঠছে। শ্বেত কপোতের ডানা ঝাপটানো তোমার সকাল, পুকুরে রুপালি মাছের সঙ্গে সাঁতরানো দুপুর, বিকালে পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণভবনের লেক মাড়ানোর গল্প অথবা সন্ধ্যা-রাতের ৩২ নম্বরের বাড়িটির হইচই আর শাসন-বারণের নানা আদর তোমাকে জড়িয়ে রেখেছে যত্নে। তুমি নেই তাই ৩২ নম্বরের বাড়িটির অবকাঠামো তেমনি থাকলেও পাল্টেছে অনেক কিছুই। বঙ্গমাতা শেখ মুজিবের কোলে শুয়ে তোমার ঘুম, বড় বোন হাসু আপার মমতা-মাখানো চেয়ে থাকা দৃষ্টি, আর ভাবিদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে তোমার দিন কখন গড়িয়ে গেল রাসেল। তোমার জন্মের পরও বঙ্গবন্ধুকে জেলে যেতে হয় বারবার। তখন তুমি ছোট ছিলে বলে সবার চোখের মণি হয়ে ওঠো। তুমি একটু ব্যথা পেলে সবার মন কেঁদে উঠত। সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু কার না প্রিয় হয়। তুমি ছিলে এ দেশের সবার আপনজন।

 ২.

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের যে বাড়িটিতে ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর তোমার জন্ম সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘আমাদের পাঁচ ভাইবোনের সবার ছোট রাসেল। অনেক বছর পর একটা ছোট্ট বাচ্চা আমাদের বাসায় ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে বাংলায় ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখেন।’ বাসার সামনের ছোট্ট সবুজ লনে ভাইবোনরা তোমার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠত। তোমার হামাগুড়ি দেওয়া, হাঁটার চেষ্টা সবই স্পষ্ট ছবি হয়ে আছে এখনও। শেখ হাসিনাকে ‘হাসুপা’ বলে ডাকতে তুমি। কামাল ও জামালকে ভাই, আর রেহানাকে আপু। কামাল ও জামালের নাম কখনো বলতে না। অনেক চেষ্টা করার পর ডেকেছিলে-‘কামমাল’, ‘জামমাল’। তবে সব সময় ‘ভাই’ বলেই ডাকতে তাদের। শিশুকাল থেকে চলাফেরার তোমার ছিল সাহসী আর সাবধানি আচরণ। তোমার অতিপ্রিয় দুটি সাইকেল এখনও রয়েছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে। যে সাইকেল নিয়ে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত তোমার। 

৩.

রাসেল ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা হাসুপার অতি কাছের। অবসর সময় কাটত তাকে নিয়ে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলে রাসেলের মুখের হাসি মুছে যায়। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল তার আব্বাকে খুঁজত। আর তখন তার মা বেগম মুজিবও ব্যস্ত স্বামীর মামলা-মোকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। ফলে রাসেলের যত্ন না পাওয়ারই কথা। কিন্তু শেখ হাসিনা তার কাছে থেকেছেন। ৩২ নম্বর বাড়ির আঙিনা জুড়ে কবুতর ঘুরে বেড়াত। আর রোজ সকালে রাসেলকে কোলে নিয়ে বেগম মুজিব তাদের খাবার দিতেন। রাসেল বড় হতে থাকলে খেলার সঙ্গী হিসেবে কবুতরের পেছনে ছোটা আর নিজে হাতে করে খাবার দেওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু ওকে কখনো কবুতরের মাংস খাওয়াতে পারেননি কেউ। যেন পোষা পাখির প্রতি বাল্যকাল থেকে তার অন্তরে মমতা জেগে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময়গুলো পিতার অভাব ভুলিয়ে রাখার জন্য পরিবারের সবার চেষ্টা থাকত নিরন্তর। বাসায় পিতার জন্য কান্নাকাটি করলে বেগম মুজিব তাকে বোঝাতেন এবং তাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘মাকেই আব্বা বলে ডাকতে শুরু করে। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলায় আসামি করে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হলে পরিবারে নেমে আসে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। সে সময় রাসেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। যেন শিশুমন টের পায় পিতার সঙ্কট কতটা গভীর। ১৯৬৮-৬৯ সালের দিকে সবাই যখন আন্দোলনে ব্যস্ত তখন সে বাড়ির কাজের লোকদের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠে। এমনিভাবে সে কাজের লোকদের সঙ্গে ভাত খেতে পছন্দ করতে শিখেছিল। চার বছর বয়সেই সে বাড়ির পোষা কুকুর টমির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে নিয়েছিল। টমিকে সে খুবই ভালোবাসত। হাতে করে খাবার দিত। নিজের পছন্দমতো খাবারগুলো টমিকে ভাগ দেওয়া ছিল একটি কাজ। ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন বছর পর বঙ্গবন্ধু মুক্ত হলে রাসেল খেলার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপরই পিতাকে দেখে আসত। পিতা বাড়ির নিচে অফিস করতেন। সারাদিন নিচে খেলা করত সে আর কিছুক্ষণ পরপর বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যেত।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে পরদিন হামলার মুখে পড়ে মায়ের সঙ্গে রাসেলকেও দেওয়াল টপকে পালাতে হয়। তারপর দীর্ঘ নয় মাস ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে বন্দি থাকতে হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর পাহারায়। তখন রাসেলের দিনগুলো কেটেছে নিরানন্দে। প্রথমদিকে রাসেল বঙ্গবন্ধুর জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর ভাই কামাল মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ায় তাকে পায়নি, সেটাও তার জন্য কষ্টকর ছিল। মনের কষ্টে চোখের কোণে সব সময় পানি থাকত তার। তবে ছোটবেলা থেকে মনের কষ্ট নিজেই বহন করতে শিখেছিল রাসেল। ১৯৭১ সালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম হলে বন্দিখানায় তোমার আনন্দ সঙ্গী জুটেছিল। সারাক্ষণ তার পাশেই থাকত সে। একাত্তরে ঢাকায় বিমান হামলার সময় রাসেল তুলা নিয়ে এসে জয়ের কানে গুঁজে দিত। স্নেহ-মমতায় অন্তরপূর্ণ সার্থক মানুষ হয়ে উঠছিল সে।

৪.

শেখ রাসেল, একাত্তরে তুমি ছিলে তোমার প্রিয় সব খাবার থেকে বঞ্চিত, খেলার সঙ্গী ছাড়াই তোমাকে বন্দিশালার জানালা দিয়ে পাকসেনাদের অস্ত্রশস্ত্র পরিষ্কার করা দেখতে দেখতে নয় মাস কাটাতে হয়েছে। যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা দেখার সুযোগ না হলেও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তোমার ভেতর মানুষের জন্য ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল গভীর মমত্ববোধ। ১৭ ডিসেম্বর (১৯৭১) তুমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিলে মুক্তির আনন্দ। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করে শত্রু তাড়ানোর সেই উল্লাস পরিবারের সদস্যদের চোখের পানিতে ধুয়ে গেছে। তাদের দুঃখ দেখলে তোমার মন খারাপ হয়ে যেত। অবশ্য যুদ্ধ শেষে কামাল ও জামালকে পুনরায় কাছে পেয়ে পৃথিবী ঝলমল করে উঠলেও তখনও পিতাকে তুমি খুঁজে ফিরছিলে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন। এয়ারপোর্টে গিয়েছিলে পিতাকে আনতে। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে পিতাকে নিয়ে তোমার খুব গর্ব হয়েছিল রাসেল? সবচেয়ে আনন্দের সেই দিনটি কেবল তোমার নয়, সারা বাঙালি জাতির ছিল। এ জন্য তুমি যেমন পিতাকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে চাইতে না, তেমনি আমাদের জনগণও। তুমি যেন হয়ে উঠলে জনগণের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুকে এ দেশের মানুষ ভালোবেসেছিল নিঃস্বার্থভাবে; যেমন তুমি পিতাকে। তোমার ভালোবাসার সারণিতে এখনও আমরা দাঁড়িয়ে আছি রাসেল। স্বাধীনতার পর ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে পুনরায় তোমার হাসি মুখে ঘুরে বেড়ানো শুরু হয়। সাইকেলে চড়ে তুমি ব্যস্ত হয়ে ওঠো সারা দিন। তারপর পুরনো গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ছোট ছেলের সার্বক্ষণিক আনাগোনা। বিকালে সাইকেলটাও সঙ্গে থাকত। তোমার খুব শখ ছিল মাছ ধরার। তা ছিল খেলা। কারণ মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিতে তুমি। নাটোরের উত্তরা গণভবনেও তোমাকে সে রকমই দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র ছিলে। কিন্তু বাসায় তোমাকে পড়াতে গিয়ে শিক্ষককে তোমার কথাই শুনতে হতো বেশি। তোমার কথায় পড়াতে আসা শিক্ষয়িত্রীকে প্রতিদিন দুটো করে মিষ্টি খেতে হতো। মানুষকে আপ্যায়ন করতে খুবই পছন্দ করতে তুমি। টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে গেলে তোমার খেলাধুলার অনেক সঙ্গী জুটে যেত। প্রত্যেকের জন্য খাবার কিনে দিতে। বেগম মুজিব তাদের জন্য জামাকাপড় নিয়ে যেতেন। গ্রামের শিশুদের সঙ্গে তোমার সেই মৈত্রীর বন্ধন অনেকেই এখনও স্মরণ করেন। তুমি হতে চেয়েছিলে আর্মি অফিসার। কামাল-জামালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে তার অনুপ্রেরণা জন্মেছিল।

৫.

পিতার সঙ্গে রাসেলের সম্পর্ক ছিল চিরন্তন পিতৃ হৃদয়ের মমতা মাখানো। পিতাকে মোটেই ছাড়তে চাইত না সে। যেখানে-যেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব প্রধানমন্ত্রী তাকে নিয়ে যেতেন। বেগম মুজিব তার জন্য প্রিন্স স্যুট বানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ পিতা প্রিন্স স্যুট যেদিন পরতেন রাসেলও পরত। পোশাকের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার নিজের পছন্দ ছিল। ছেলেবেলা থেকেই তার চরিত্রে দৃঢ়তা গড়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময় রাসেলও সেখানে যেতে পেরে আনন্দে মেতে উঠেছিল। তবে মাকে ছেড়ে কোথাও তার থাকতে খুব কষ্ট হতো। বাইরে পিতার সান্নিধ্যে থেকেও মায়ের কথা মনে পড়লেই মন খারাপ করত সে। কারণ বঙ্গবন্ধুর অধিকাংশ সময় জেলে কেটেছে। এ জন্য মাকে কেন্দ্র করে তার প্রাত্যহিক জীবন গড়ে উঠেছিল। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে কামাল ও জামালের বিয়ের অনুষ্ঠানে রাসেল ওর সমবয়সিদের সঙ্গে মিলে রং খেলেছিল। বিয়ের পর সবসময় ভাবিদের পাশে ঘুরঘুর করত সে, কার কী লাগবে খুব খেয়াল রাখত। ১৯৭৫-এর ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা জার্মানিতে স্বামীর কর্মস্থলে যাওয়ার পর রাসেলের খুব মন খারাপ হয়ে যায়।

৬.

শেখ হাসিনা জার্মানি যাওয়ার সময় রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার হঠাৎ জন্ডিস হওয়ায় শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। সে কারণে বেগম মুজিব তাকে আর শেখ হাসিনার সঙ্গে যেতে দেননি। রাসেলকে যদি সেদিন তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন তা হলে তাকে আর হারাতে হতো না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে ক্ষতবিক্ষত করা হয় ছোট্ট রাসেলকে। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় শেখ রাসেলকে। তার আগে সে বারবার বলেছিল, ‘মায়ের কাছে যাব’। তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি খেতেও চেয়েছিল। মায়ের কাছে নেওয়ার নাম করেই হত্যা করা হয় শিশু রাসেলকে। মাত্র ১০ বছর ৯ মাস ২৭ দিনের স্বল্পায়ু জীবন ছিল তার। আজ জন্মদিনে তাকে আমরা স্মরণ করছিস- একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর অন্তরবেদনা, তার মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতার সম্পর্ক বোঝার জন্য। প্রাণোচ্ছল শিশু শেখ রাসেল মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছিল, বঙ্গবন্ধুর আনন্দের সঙ্গী ছিল আর বাঙালির চিরন্তন পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনে তার অনাবিল উচ্ছ্বাস ছিল অফুরন্ত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ রাসেল পিতামাতা ও অন্যদের সঙ্গে যে নিষ্ঠুরতার নির্মম শিকার হয়েছিল তা এখনও বিশ^মানবতাকে বিচলিত করে। আমরা সেই পৈশাচিকতা থেকে আলোর পথে বের হয়ে আসতে চাই। তাই স্মরণ করি শেখ রাসেলকে। 

অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্বিদ্যালয়

খবর, রাজনীতি

দূর্গাপাশা ইউনিয়নে নির্বাচনে ঘটতে পারে খুনোখুনি

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ ই ডিসেম্বর ২০২১,০৯:৪৫ এএম। অনলাইন সংস্করণ

দূর্গাপাশা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নীল নকশা!
ঘটতে পারে খুনাখুনির মতো ঘটনা!

জিয়াউল হক //
চলমান স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল জেলা বাকেরগঞ্জ থানার ৫ নং দূর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার চরম বিপর্যয় ঘটার পথে। বলা যায় বিদ্রোহীদের জনপ্রিয়তায় নৌকা বিতাড়িত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দূর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রতিদন্ধিতায় রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম.সিরাজুল ইসলাম (বাশার) ও সাবেক চেয়ারম্যান সালাম খান।

আগত নির্বাচনে দূর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে ভোট যুদ্ধের লড়াইয়ে। সবচেয়ে বড় বিস্ময়, যারা বিদ্রোহী হয়ে মাঠে রয়েছেন তারা কেউ বিএনপি জামাতের নন, এরা আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী!!

বিদ্রোহী দমনে আওয়ামী লীগের কোন কৌশলই কাজে আসছে না। দলীয় সাধারণ সম্পাদক বার বার বলছেন, এবারের বিদ্রোহীরা চিরদিনের জন্য বহিষ্কৃত হবেন। যদিও দলের নেতা কর্মীরা এটিকে কৌশলের ঘোষণা বলেই বিশ্বাস করেন। সময়ে বহিষ্কার,অসময়ে প্রত্যাহার এসব দেখে বহিষ্কারের ঘোষণা এখন যেন আর কাউকেই বিচলিত করে না। বিদ্রোহীদের বিজয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দলীয় ঘোষণা কে বাস্তবায়ন করতে হলে, লোম পরিষ্কার করতে গিয়ে কম্বলই না আবার খালি হয়ে যাওয়ার মত।

সারাদেশে সবাই যখন আওয়ামী লীগ, এমন পরিস্থিতিতে নৌকা প্রার্থীদের করুণ চিত্র কিসের ইংগিত বহন করে? ঐতিহ্যগত ভাবে একসময় আওয়ামী রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য ছিল না। বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো ক্ষমতা কে ব্যবহার করে সেনা ছাউনিতে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি। তাই দলটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা কর্মীর প্রাধান্য ছিল। কালের নিষ্ঠুর নিয়তিতে দলটি যেন ক্রমেই তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। দীর্ঘ দেড় যুগ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও দলটির নিবেদিতপ্রাণ নেতা কর্মীরা যেন নিজ গৃহেই নির্বাসনে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মী হয়েও অনেক স্থানেই ত্যাগীরা যেনো পরগাছা! স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রচলন দীর্ঘদিনের ত্যাগীদের মনে আশার সঞ্চার করলেও, এটিই এখন তাদের গলার ফাঁস। এখন দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের কাছে বিকল্প কোন পথ না থাকায়, এককালের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা আজ স্বেচ্ছায় দল ঘোষিত ফাঁসির মঞ্চে যেতেও সংশয় করছে না। এটি কিসের লক্ষণ?এর অন্তর্নিহিত কারণটা ই বা কি? তাহলে বিদ্রোহীরা কি আওয়ামী লীগের কেউ না, অস্বীকার করার নয় দলের চরম দুর্দিনে এই বিদ্রোহীরাই রাজপথ কাঁপিয়ে রেখেছেন আজকের তাদের কন্ঠ যেন চেপে ধরে বন্ধ করার কৌশল মাত্র।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সকল কর্মকাণ্ডে সিরাজুল ইসলাম বাশার এর উপস্থিতি কোনোভাবেই অস্বীকার করার নয়। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পৌরনির্বাচন ইউপি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভালবেসে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বর্তমান এই চেয়ারম্যান। সাংগঠনিক কর্মদক্ষতায় মন জয় করেছেন উপজেলার শীর্ষ নেতাদের। অজানা কারণে নৌকার নমিনেশন থেকে ছিটকে পড়লেও সাধারণ ভোটারদের অন্তরে যায়গা করে নিয়েছেন এই ত্যাগী নেতা। ৫ নং দূর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের মনোনীত হয় আনারস মার্কা নিয়ে ভোটযুদ্ধে সকলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

তার বিজয় সুনিশ্চিত ভেবেই একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রের নীলনকশা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
দূর্গাপাশা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে হানিফ তালুকদার তার কর্মীদেরকে বেপরোয়া করে প্রতিপক্ষ আনারস প্রার্থীর সমর্থকদের প্রচারণা করতে বিগ্ন সৃষ্টি করে। বর্তমানে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আরো জানা যায় পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলা দিয়ে ভারাটিয়া মাস্তান এনে মাঠে রাখছেন। ইতিমধ্যে আনারসের প্রার্থী এস.এম. সিরাজুল ইসলাম বাসার তার সমর্থকদের নিয়ে মাঠে রয়েছে। তিনি ০৯ টি ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ উঠান বৈঠক নির্বচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।

এস.এম. সিরাজুল ইসলামের সমর্থক মোঃ শাহিন খান জানায় আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যপক সমর্থক দেখে নৌকার প্রার্থী হানিফ তালুকদার হতাশা হয়ে পরছে। লক্ষ্মীবর্ধন ০৯ নং ওয়ার্ডের আনারসের সমর্থকরা প্রচারণা করতে গেলে তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করে প্রতিহত করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এস.এম. সিরাজুল ইসলাম বাসার তার সমর্থকদেরকে নির্বাচনী প্রচারণা না করে এবং কোন ঝামেলা না করে এলাকার শ্রান্তির জন্য তার সকল কর্মীদেরকে তার বাড়িতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন।

নীলনকশার অংশ হিসেবে আজ ১৫ ডিসেম্বর সেনের হাট বাজারে দুপুর একটায় বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাশার বাজারে উপস্থিত হলে ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী সঞ্জয় দাস চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করেন তিনি এই বাজারের কেন আসছেন বাকবিতন্ডায় জড়ায় ও তার উপরে হামলার পরিকল্পনা করলেও বাজারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে সঞ্জয় দাস গা-ঢাকা দেয়। যাহার ভিডিও চিত্র সাংবাদিকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ঘটনাস্থলে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাশার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন বিভিন্ন হাট-বাজারে তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে ও তার সমর্থকদের প্রচার প্রচারণায় বাধা গ্রস্থ করা সহ মারধর করা হচ্ছে। তিনি এসময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি অবাধ ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।

দূর্গাপাশা ইউনিয়ন এর সর্বস্তরের জনসাধারণের একটাই দাবি আগত ইউপি নির্বাচনে এসএম সিরাজুল ইসলাম বাসার শিকদারকে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করবেন তারা।

রাজনীতি

ছাত্রলীগ নেতা কালাম গ্রেফতার, প্রশাসনের নাটকীয় চমক

প্রকাশিত:সোমবার,২৭ এপ্রিল ২০২১,০১:১৫ এএম।অনলাইন সংস্করন

বাকেরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা কালাম খানকে গ্রেফতার করে প্রশাসনের নাটকীয় চমক।

বাকেরগঞ্জ ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম খানকে তুচ্ছ ঘটনায় গ্রেফতার করে মিথ্যা অভিযোগে কোর্ট হাজতে প্রেরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় গতকাল ২৪ শে এপ্রিল রবিবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে পরিবারের সব সদস্য ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন এমনতবস্থায় ওর মাসুম বাচ্চাটাও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে। বাচ্চার মা ডায়রিয়ায় বাসায় স্যালাইন রত অবস্থায় হঠাৎ বাচ্চাটির দুই বার বমি এবং দুইবার পাতলা পায়খানা হলে বাচ্চাটি বাসায় বিছানায় ঢলে পড়ে,

বাচ্চার এ অবস্থায় কিংকর্তব্য বিমূর্ত হয়ে তড়িঘড়ি করে বাচ্চাটিকে কাদের উপর নিয়ে দুপুরবেলা প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে, অন্যদিকে লকডাউন থাকার কারণে কোন গাড়ি না পেয়ে, পায়ে হেঁটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে তাড়াহুড়ো করে জরুরি বিভাগে ঢুকে পরেন।

তখন কর্তব্যরত ডাক্তার মনিরুজ্জামানের কাছে গিয়ে বিনিত অনুরোধ করেন, বাচ্চাটিকে বাঁচান। কিন্তু কর্তব্যরত ডাক্তার বাচ্চাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমার দিকে তাকান আমি মাক্স পড়া আপনার ম্যাস্ক কই, ম্যস্ক পরে আসেন নি কেন? আগে সেটা বলেন তারপর আপনার বাচ্চার ভর্তি নেবো কি নেবো না সেটা পরে দেখা যাবে।

তখন বাচ্চাটিকে অন্য এক মহিলার কাছে দিয়ে পকেটে থাকা ম্যস্কটি পরে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন। তখন সে ভর্তি নিতে অপরাগতা শিকার করেন। এক পর্যায় ভর্তি নিতে না পারলে ও ক্যানোলা পরিয়ে দেবার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কোনো কথায় কর্নপাত না করে নিজেকে নিয়ে ব্যস্থ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে পরলে ঘটনার এক পর্যায় ডাঃ ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দিতে চেষ্টা চালালে ঘটনাটি হাতাহাতিতে গড়ায়।

পরবর্তীতে সেখানকার উপস্থিত সবাই ছুটে এলে। পরিস্থিতি, শান্ত হয়। এ সময়ে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে থাকা লোকজন বিস্তারিত শুনে ডাঃ কে শান্ত করে বুঝিয়ে চিকিৎসা সেবা দেবার অনুরোধ করেন তাতেও কাজ হয়নি। এমন কি ঘটনা স্থলে উপস্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আকন বিনীত অনুরোধ করছেন তাতেও মন গলেনি।

অবশেষে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ক্লিনিকে এনে মুমূর্ষু বাচ্চা টিকে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেন। বিষয় টি নিয়ে গতকাল অনেক তোলপাড় সৃষ্টি হলে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা সহ একধিক পত্রিকায় প্রশাসনের বরাত দিয়ে লেখালেখি হয়। সেখানে ও ডঃ মনিরুজ্জামানের বিষয় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

তা সত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপে চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর ভাবে অদ্য দুপুরে ক্লিনিকে যাওয়ার সময় ৪/৫ জন এস আই সহ পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যরা মিলে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওকে গ্রেফতার করে তড়িঘড়ি থানায় এনে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াজ না করেই মহিলা ডাঃ এর সাথে গ্যানজামের এক কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় হতবাক স্থানীয় ছাত্রলীগ সহ সচেতন মহল তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে। অনতিবিলম্বে ঘটনার মানবিক দিক বিবেচনা করে। দ্রুত নিঃশ্বর্ত মুক্তির দাবী জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মেডিকেলে দায়িত্ব রত ডাঃদের দ্বারা প্রতিনিয়ত এমন অমানুষিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ম দুনীতিতে ভরপুর বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিয়ে ইতিপূর্বে বহুবার লেখা লেখি হলেও ব্যবস্থা নেবার নজির সৃষ্টি করতে পারেনি কতৃপক্ষ অথচ তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এমন নজিরবিহীন তৎপরতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।