প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২। ০১:১৫ পিএম। অনলাইন সংস্করণ
বরিশালে ধর্ষণ মামলায় এস আই আবুল বাশার নামের পুলিশ কর্মকর্তার জেল হয়।
সূত্রে, জানা যায় বরিশাল জেলা, বাকেরগঞ্জ থানাদিন বিহারীপুর গ্রাম, খান বাড়ি মোঃ আবুল বাশার খান, পিতাঃ মোঃ আব্দুল জলিল খান।
এস আই আবুল বাশার খান এর নিজ গ্রাম থেকে অনেক কেলেঙ্কারের তথ্য পাওয়া যায়।
বরিশালে মামলার বিষয়ে আলাপের নামে হোটেলে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল বাশার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মামলা দায়েরকারি ও ভুক্তভোগী বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুরের ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, উপ পরিদর্শক আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৫ অক্টোবর উপ পরিদর্শক আবুল বাশারের সঙ্গে একটি অভিযোগের বিষয়ে আলাপকালে পরিচয় হয় বাদীর। তখন মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হয় দুজনের মধ্যে। ১৩ অক্টোবর অন্য একটি মামলার বিষয়ে কথা বলতে আবুল বাশারকে ফোন করেন বাদী। তখন বাদীর অবস্থান জানতে চায় আবুল বাশার। বাদী তার অবস্থান জানালে সেখানে উপ পরিদর্শক আবুল বাশার আসে। আবুল বাশার তখন তার অফিসিয়ালি রুমে বসে কথা বলার জন্য বলেন। এরপর ভুক্তভোগী বাদীকে অফিসিয়াল রুমের কথা বলে বিকাল ৪টার দিকে নগরীর প্যারারা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। ওই হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষে কথা বলার একপর্যায়ে উপ পরিদর্শক আবুল বাশার ওই নারীকে ধর্ষণ করে। পরে বিকাল ৫টার দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে যায় ওই নারী ভুক্তভোগী।
এদিকে স্টিমার ঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় চাঁদাবাজীর অভিযোগ ছিলে এলাকাবাসীর। পাশাপাশি সে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তও হয়েছিলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেটাই বোঝা যাচ্ছে। এছারাও গোটা দেশকে ক্রিমিনাল স্টেটে পরিণত করেছে শেখ হাসিনা। তিনি যে সরকার পরিচালনা করছেন সেটা হচ্ছে অপরাধীদের সরকার। আজ শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিএনপির গণসমাবেশে বাধা দিচ্ছে। তারপরও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গতকাল থেকেই রংপুর জনসমাবেশে জনতার ঢল নামে। মানুষের যেন স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে রংপুর মহানগর। বিভিন্ন জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে মানুষ রংপুরে এসে মিলিত হয়েছে। মানুষ শুকনা খাবার রুটি চিড়া নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছে। এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মন্ত্রিসভার কিছু সিনিয়র সদস্য বিএনপির গণসমাবেশে জনতার এ স্রোত দেখে বিচলিত বোধ করছেন। এতে মনে হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিরোধী কথাই বলছে না বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন।
তিনি বলেন, দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জে ভাষণ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে আমরা যে বিবৃতি দিই তা শুধু আমাদের নয়, বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াও তাদের সমালোচনা করেছে। সেই সমালোচনাগুলোই পক্ষান্তরেই ওবায়দুল কাদের বলেছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন। শতকরা ৯০ ভাগ বলছে আর দশভাগ বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলছে; যেভাবে বলুক না কেনো মনে হয়েছে তিনি বিরোধী দলের কথাগুলোই বলছেন।
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বিএনপি স্বাধীনভাবে মিছিল, মিটিং করতে পারছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলে আওয়ামী লীগ বাধা দেবে না। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা কিংবা হেফাজত ইসলামের মতো তাণ্ডব করলে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতকে যেভাবে দমন করা হয়েছে, বিএনপিকে সেভাবে দমন করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার সভায় বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা এমন বার্তা দেন। তাকে উদ্ধৃত করে বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আজকে স্বাধীনভাবে মিটিং করতে পারছে, মিছিলও করতে পারছে, সবই করতে পারছে। কিন্তু যে সমস্ত আসামি, যারা অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। রেল, বাস, গাড়ি, সিএনজি, লঞ্চে আগুন দিয়েছিল। কোনো জায়গা বাদ ছিল না। প্রত্যেক জায়গায় আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত। আমি জানি তারা অনেকেই লুকিয়ে ছিল। এখন বিএনপি মাঠে নেমেছে, তারা মাঠে নামবে। কিন্তু এই সমস্ত আসামিদের ধরতে হবে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’
উপস্থিত নেতারা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা পাস করাবেন এই ধারণা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। এবারের নির্বাচনে সবাইকে নিজের যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে। দলীয় এমপিদের এলাকায় কার কী অবস্থা, তা জানতে জরিপ চলছে জানিয়ে দলীয় সভাপতি বলেন, এমপিরা কর্মগুণে মনোনয়ন পাবেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসা এমপিরা নির্বাচন কী তা বোঝেন না, তাদের বুঝতে হবে।
দেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা গঠনতন্ত্র মেনে চলে উল্লেখ করে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরই মধ্যে অনেকগুলো জেলা হয়ে গেছে। কয়েকটি জেলাতো পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দিয়েছে। যেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে গেছে, সেখানে আমি জনসভা করব। পাশাপাশি আমি নেতা কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করব। সেটাও আমি প্ল্যান নিয়েছি। নভেম্বরের মাঝামাঝি বা ডিসেম্বর থেকে তা শুরু করব।’
আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলন সাদামাটাভাবে করা হবে উল্লেখ করে সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটিসহ উপকমিটি করার জন্য নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখি যেহেতু অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের দেশেও সেই অবস্থা। এবারের সম্মেলন আমরা শানশওকত করে করব না। খুব সীমিত আকারে অল্প খরচে সাদাসিধেভাবে আমাদের সম্মেলনটা করতে হবে।’ সম্মেলনের খরচ খুব সীমিত হয় এবং মানুষের কষ্ট না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২, ১১:৩৭ পিএম। অনলাইন সংস্কার
ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বল বাঁধ তাদের এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বৃহস্পতিবারের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির বার্তা দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।
এ লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ারও আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে পূর্ববর্তী দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাতক্ষীরার উপকূলবাসী।
ষাটের দশকে নির্মাণ করা এখানকার বেড়িবাঁধগুলো আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এসব বাঁধ এখন আর সামাল দিতে পারছে না ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা। জিও ব্যাগের বালুর বস্তা আর রিং বাঁধ দিয়ে কোনোরকম টিকিয়ে রাখা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ। এছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারও।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের শেষ জনপদ সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। সুন্দরবনের কূল ঘেঁষা এই দ্বীপ ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে খোলপেটুয়া নদীর তীরে বেড়িবাঁধে বসবাস করেন নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর নদীতে আমাদের ভিটামাটি বিলীন হয়ে যায়। স্থায়ী মেরামত না হওয়ায় এখনো সেখানে জোয়ার ভাটা চলছে। তখন থেকে আমরা বেড়িবাঁধের পাশে একটি ঘর তৈরি করে বসবাস করছি।’
নুরজাহান বেগম আরও বলেন, ‘এখানেও শান্তিতে নেই। গেল কয়েক বছরে ফণী, বুলবুল, আম্পানসহ একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশ্রয়স্থলটি। শুনলাম আবার নতুন ঝড় আসবে এতে আবারও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় আছি।’
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। সে সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। এরপর ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই কোমেন, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানু, ২০১৭ সালের ৩০ মে মোরা, ২০১৯ সালের ৩ মে ফণী, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বুলবুল আঘাত হানে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২০ মে বিকেলে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে সাতক্ষীরা উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এ সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। যার ক্ষত শুকায়নি এখনো।
সেলিনার মতোই আতঙ্কে দিন পার করছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসরত হাজারো পরিবার। দুর্যোগ এলেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এখানকার মানুষ। নদীতে জোয়ারের পানি বাড়লেই বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় লোকালয়। লবণ পানি ঢুকে বিপর্যস্ত হয় জীবনযাত্রা। নষ্ট হয়ে যায় খাবার পানির উৎস। এছাড়া উপকূলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারও।
গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গাজীর জমি নেই। নদীর পাশে সরকারি খাস জমিতে বসবাস তার। তিনি বলেন, ‘ঝড় এলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা। ঘরবাড়ি ফেলে রেখে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে হয়। আমাদের বাড়ি থেকে সাইক্লোন শেল্টারের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। তারপরও জীবন বাঁচাতে সবকিছু ফেলে রেখে কষ্ট করে আমরা সেখানে যায়।’
একই গ্রামের বাসিন্দা কৌতুরী বেগম বলেন, ‘ঝড় এলেই সবাই সাইক্লোন শেল্টারে যেতে বলে। কিন্তু বাড়িতে হাস, মুরগি, গরু, ছাগল ফেলে রেখে যেতে পারি না। অনেক সময় জীবন বাজি রেখে বাধ্য হয়ে বাড়িতে পড়ে থাকতে হয় ‘
গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মনজুর গাজী বলেন, ‘ষাটের দশকে উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধ ২০০৯ সালে আইলা ও সবশেষ ২০২০ সালে আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এখনো আমাদের ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের ৮টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। জোয়ারের পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙে আবারও প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ এলাকা। এর আগে বারবার বাঁধ ভাঙলেও টিকে থাকার স্বার্থে মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রিং-বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করে। তবে এখনো স্থায়ী বাঁধ হয়নি। এখন ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’-এর খবরে নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ।’
এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, গাবুরা ইউনিয়নে বাসিন্দা প্রায় ৪৫ হাজার অথচ এখানে সাইক্লোন শেল্টার আছে মাত্র ১৫টি। এত মানুষকে এ কয়েকটি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অল্প কিছু মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। এত মানুষকে এ কয়েকটি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।
মাসুদুল আলম আরও বলেন, ঝড়ের চেয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় বেড়িবাঁধ নিয়ে। আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ কোনো রকমে টিকে আছে। নদীর পানি বাড়লেই বিভিন্ন অংশে ভাঙন তৈরি হতে পারে। সরকার নতুন করে এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেও কাজ শুরু হয়নি।
আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বাকি জায়গাগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতায় সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৩৫টি পয়েন্ট, যার আয়তন প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
সংবাদ: নাটোরে কলেজশিক্ষিকা খায়রুন নাহারের (৪০) মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তার স্বামী মামুন হোসাইন (২২) জামিন পেয়েছেন।
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২, ২:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
গত ৮ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল। মামুনের জামিন পাওয়ার তথ্য শনিবার
(১৫ অক্টোবর) জানা গেছে। তবে খায়রুন নাহারের মৃত্যুর রহস্য এখনও জানা যায়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম
সারোয়ার স্বপন সময়ের আলোকে বলেন, গত ১৪ আগস্ট সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক খায়রুন নাহারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর খায়রুনের চাচাতো ভাই সাবের উদ্দীন একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। এই মামলায় মামুনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ১৫ আগস্ট জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেন বিচারক।
এরপর ৮ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে অস্থায়ী জামিনের আদেশ দেন সদর আমলি আদালতের বিচারক নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলজার রহমান।
২৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিনে জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মামলা শুনানির জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। এই আইনজীবী বলেন, ‘মামুন আমাকে জানিয়েছেন, তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হলে কলেজের সহকর্মী, স্টাফ ও পরিচিত-পরিজনদের কটাক্ষের শিকার হতে থাকেন খায়রুন। এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদ তাকে বহিষ্কার করতে পারে—এমন খবর শোনার পর আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন। মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতেন খায়রুন। এছাড়া এক বন্ধুকে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এসব কারণে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ওই রাতে (১৩ আগস্ট) বেশি ঘুমের ওষুধ খান। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা মামুনের।’
মামুনকে বিয়ে করায় খায়রুনকে কটাক্ষ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ। তিনি বলেছেন, ‘ওই সময়ে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিয়ের বিষয়টি খায়রুনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত কখনোই হয়নি। এছাড়া বিয়ের বিষয় নিয়ে কলেজের কোনও শিক্ষক বা অন্য কেউ তাকে কটাক্ষ করেছে এমন খবরও আমার জানা নেই।’
মামলার বাদী সাবের উদ্দীন বলেন, ‘খায়রুন তার কোনও বন্ধুকে টাকা দিয়েছিলেন, সেই বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সোনালী ব্যাংকের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় শাখার ম্যানেজার আমাকে বলেছিলেন, মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে ওই ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন খায়রুন। ওই সময় মামুন তার সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক থেকে তিন লাখ ছাড়াও একটি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা তুলে মামুনকে দিয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে তার বাড়িতে টিনশেড দুটি রুম করেন মামুন এবং আসবাবপত্র, ফ্রিজসহ কিছু জিনিসপত্র কেনেন। মৃত্যুর ১৮ দিন আগে তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেন খায়রুন। এছাড়া ধান কিনে ব্যবসা করবেন বলে খায়রুনের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছিলেন মামুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর রাতে ছেলে বৃন্তকে খায়রুন বলেছিলেন, তিনি আটটি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন। একটি খেলেই মানুষ বিভোরে ঘুমায়। তাহলে আটটি খাওয়ার পর একজন মানুষ কীভাবে গলায় ফাঁস নিতে পারেন?’ সাবের উদ্দীন বলেন, ‘মামুন ওই রাতে (১৩ আগস্ট) কখন বাইরে গিয়ে কখন ফিরেছেন, তা এখন প্রমাণিত। খায়রুনকে সে-ই হত্যা করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তাকে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’এদিকে জামিন ও ঋণ নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘পরে কথা বলবো’ বলে কল কেটে দেন মামুন। এরপর কয়েকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, লাশের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। নাটোর সদর হাসপাতালের পরিচালক পরিতোষ কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই লাশের বিষয়ে আমাদের যে কাজ ছিল তা আমরা করেছি। ঢাকা থেকে ভিসেরা রিপোর্ট এলে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।’ প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কলেজছাত্র মামুন ও শিক্ষিকা খায়রুনের বিয়ে হয়। বিয়ের বিষয়টি ৩১ জুলাই জানাজানি হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ১৪ দিন পর ১৪ আগস্ট সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে খায়রুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনকে আটক করা হয়। পরে খায়রুনের চাচাতো ভাইয়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
দীপ্ত জয়োল্লাস আর অদম্য আত্মবিশ্বাসে গৌরবান্বিত শেখ রাসেল। তোমার ৫৯তম জন্মদিনে এই বাংলাদেশ তোমাকে স্মরণ করছে। মায়াবী দুঃখের মুখ নিয়ে তোমার স্মৃতিঘেরা আঙিনাগুলো জেগে উঠছে। শ্বেত কপোতের ডানা ঝাপটানো তোমার সকাল, পুকুরে রুপালি মাছের সঙ্গে সাঁতরানো দুপুর, বিকালে পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণভবনের লেক মাড়ানোর গল্প অথবা সন্ধ্যা-রাতের ৩২ নম্বরের বাড়িটির হইচই আর শাসন-বারণের নানা আদর তোমাকে জড়িয়ে রেখেছে যত্নে। তুমি নেই তাই ৩২ নম্বরের বাড়িটির অবকাঠামো তেমনি থাকলেও পাল্টেছে অনেক কিছুই। বঙ্গমাতা শেখ মুজিবের কোলে শুয়ে তোমার ঘুম, বড় বোন হাসু আপার মমতা-মাখানো চেয়ে থাকা দৃষ্টি, আর ভাবিদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে তোমার দিন কখন গড়িয়ে গেল রাসেল। তোমার জন্মের পরও বঙ্গবন্ধুকে জেলে যেতে হয় বারবার। তখন তুমি ছোট ছিলে বলে সবার চোখের মণি হয়ে ওঠো। তুমি একটু ব্যথা পেলে সবার মন কেঁদে উঠত। সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু কার না প্রিয় হয়। তুমি ছিলে এ দেশের সবার আপনজন।
২.
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের যে বাড়িটিতে ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর তোমার জন্ম সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘আমাদের পাঁচ ভাইবোনের সবার ছোট রাসেল। অনেক বছর পর একটা ছোট্ট বাচ্চা আমাদের বাসায় ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে বাংলায় ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখেন।’ বাসার সামনের ছোট্ট সবুজ লনে ভাইবোনরা তোমার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠত। তোমার হামাগুড়ি দেওয়া, হাঁটার চেষ্টা সবই স্পষ্ট ছবি হয়ে আছে এখনও। শেখ হাসিনাকে ‘হাসুপা’ বলে ডাকতে তুমি। কামাল ও জামালকে ভাই, আর রেহানাকে আপু। কামাল ও জামালের নাম কখনো বলতে না। অনেক চেষ্টা করার পর ডেকেছিলে-‘কামমাল’, ‘জামমাল’। তবে সব সময় ‘ভাই’ বলেই ডাকতে তাদের। শিশুকাল থেকে চলাফেরার তোমার ছিল সাহসী আর সাবধানি আচরণ। তোমার অতিপ্রিয় দুটি সাইকেল এখনও রয়েছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে। যে সাইকেল নিয়ে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত তোমার।
৩.
রাসেল ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা হাসুপার অতি কাছের। অবসর সময় কাটত তাকে নিয়ে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলে রাসেলের মুখের হাসি মুছে যায়। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল তার আব্বাকে খুঁজত। আর তখন তার মা বেগম মুজিবও ব্যস্ত স্বামীর মামলা-মোকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। ফলে রাসেলের যত্ন না পাওয়ারই কথা। কিন্তু শেখ হাসিনা তার কাছে থেকেছেন। ৩২ নম্বর বাড়ির আঙিনা জুড়ে কবুতর ঘুরে বেড়াত। আর রোজ সকালে রাসেলকে কোলে নিয়ে বেগম মুজিব তাদের খাবার দিতেন। রাসেল বড় হতে থাকলে খেলার সঙ্গী হিসেবে কবুতরের পেছনে ছোটা আর নিজে হাতে করে খাবার দেওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু ওকে কখনো কবুতরের মাংস খাওয়াতে পারেননি কেউ। যেন পোষা পাখির প্রতি বাল্যকাল থেকে তার অন্তরে মমতা জেগে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময়গুলো পিতার অভাব ভুলিয়ে রাখার জন্য পরিবারের সবার চেষ্টা থাকত নিরন্তর। বাসায় পিতার জন্য কান্নাকাটি করলে বেগম মুজিব তাকে বোঝাতেন এবং তাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘মাকেই আব্বা বলে ডাকতে শুরু করে। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলায় আসামি করে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হলে পরিবারে নেমে আসে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। সে সময় রাসেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। যেন শিশুমন টের পায় পিতার সঙ্কট কতটা গভীর। ১৯৬৮-৬৯ সালের দিকে সবাই যখন আন্দোলনে ব্যস্ত তখন সে বাড়ির কাজের লোকদের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠে। এমনিভাবে সে কাজের লোকদের সঙ্গে ভাত খেতে পছন্দ করতে শিখেছিল। চার বছর বয়সেই সে বাড়ির পোষা কুকুর টমির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে নিয়েছিল। টমিকে সে খুবই ভালোবাসত। হাতে করে খাবার দিত। নিজের পছন্দমতো খাবারগুলো টমিকে ভাগ দেওয়া ছিল একটি কাজ। ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন বছর পর বঙ্গবন্ধু মুক্ত হলে রাসেল খেলার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপরই পিতাকে দেখে আসত। পিতা বাড়ির নিচে অফিস করতেন। সারাদিন নিচে খেলা করত সে আর কিছুক্ষণ পরপর বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যেত।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে পরদিন হামলার মুখে পড়ে মায়ের সঙ্গে রাসেলকেও দেওয়াল টপকে পালাতে হয়। তারপর দীর্ঘ নয় মাস ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে বন্দি থাকতে হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর পাহারায়। তখন রাসেলের দিনগুলো কেটেছে নিরানন্দে। প্রথমদিকে রাসেল বঙ্গবন্ধুর জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর ভাই কামাল মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ায় তাকে পায়নি, সেটাও তার জন্য কষ্টকর ছিল। মনের কষ্টে চোখের কোণে সব সময় পানি থাকত তার। তবে ছোটবেলা থেকে মনের কষ্ট নিজেই বহন করতে শিখেছিল রাসেল। ১৯৭১ সালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম হলে বন্দিখানায় তোমার আনন্দ সঙ্গী জুটেছিল। সারাক্ষণ তার পাশেই থাকত সে। একাত্তরে ঢাকায় বিমান হামলার সময় রাসেল তুলা নিয়ে এসে জয়ের কানে গুঁজে দিত। স্নেহ-মমতায় অন্তরপূর্ণ সার্থক মানুষ হয়ে উঠছিল সে।
৪.
শেখ রাসেল, একাত্তরে তুমি ছিলে তোমার প্রিয় সব খাবার থেকে বঞ্চিত, খেলার সঙ্গী ছাড়াই তোমাকে বন্দিশালার জানালা দিয়ে পাকসেনাদের অস্ত্রশস্ত্র পরিষ্কার করা দেখতে দেখতে নয় মাস কাটাতে হয়েছে। যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা দেখার সুযোগ না হলেও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তোমার ভেতর মানুষের জন্য ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল গভীর মমত্ববোধ। ১৭ ডিসেম্বর (১৯৭১) তুমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিলে মুক্তির আনন্দ। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করে শত্রু তাড়ানোর সেই উল্লাস পরিবারের সদস্যদের চোখের পানিতে ধুয়ে গেছে। তাদের দুঃখ দেখলে তোমার মন খারাপ হয়ে যেত। অবশ্য যুদ্ধ শেষে কামাল ও জামালকে পুনরায় কাছে পেয়ে পৃথিবী ঝলমল করে উঠলেও তখনও পিতাকে তুমি খুঁজে ফিরছিলে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন। এয়ারপোর্টে গিয়েছিলে পিতাকে আনতে। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে পিতাকে নিয়ে তোমার খুব গর্ব হয়েছিল রাসেল? সবচেয়ে আনন্দের সেই দিনটি কেবল তোমার নয়, সারা বাঙালি জাতির ছিল। এ জন্য তুমি যেমন পিতাকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে চাইতে না, তেমনি আমাদের জনগণও। তুমি যেন হয়ে উঠলে জনগণের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুকে এ দেশের মানুষ ভালোবেসেছিল নিঃস্বার্থভাবে; যেমন তুমি পিতাকে। তোমার ভালোবাসার সারণিতে এখনও আমরা দাঁড়িয়ে আছি রাসেল। স্বাধীনতার পর ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে পুনরায় তোমার হাসি মুখে ঘুরে বেড়ানো শুরু হয়। সাইকেলে চড়ে তুমি ব্যস্ত হয়ে ওঠো সারা দিন। তারপর পুরনো গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ছোট ছেলের সার্বক্ষণিক আনাগোনা। বিকালে সাইকেলটাও সঙ্গে থাকত। তোমার খুব শখ ছিল মাছ ধরার। তা ছিল খেলা। কারণ মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিতে তুমি। নাটোরের উত্তরা গণভবনেও তোমাকে সে রকমই দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র ছিলে। কিন্তু বাসায় তোমাকে পড়াতে গিয়ে শিক্ষককে তোমার কথাই শুনতে হতো বেশি। তোমার কথায় পড়াতে আসা শিক্ষয়িত্রীকে প্রতিদিন দুটো করে মিষ্টি খেতে হতো। মানুষকে আপ্যায়ন করতে খুবই পছন্দ করতে তুমি। টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে গেলে তোমার খেলাধুলার অনেক সঙ্গী জুটে যেত। প্রত্যেকের জন্য খাবার কিনে দিতে। বেগম মুজিব তাদের জন্য জামাকাপড় নিয়ে যেতেন। গ্রামের শিশুদের সঙ্গে তোমার সেই মৈত্রীর বন্ধন অনেকেই এখনও স্মরণ করেন। তুমি হতে চেয়েছিলে আর্মি অফিসার। কামাল-জামালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে তার অনুপ্রেরণা জন্মেছিল।
৫.
পিতার সঙ্গে রাসেলের সম্পর্ক ছিল চিরন্তন পিতৃ হৃদয়ের মমতা মাখানো। পিতাকে মোটেই ছাড়তে চাইত না সে। যেখানে-যেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব প্রধানমন্ত্রী তাকে নিয়ে যেতেন। বেগম মুজিব তার জন্য প্রিন্স স্যুট বানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ পিতা প্রিন্স স্যুট যেদিন পরতেন রাসেলও পরত। পোশাকের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার নিজের পছন্দ ছিল। ছেলেবেলা থেকেই তার চরিত্রে দৃঢ়তা গড়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময় রাসেলও সেখানে যেতে পেরে আনন্দে মেতে উঠেছিল। তবে মাকে ছেড়ে কোথাও তার থাকতে খুব কষ্ট হতো। বাইরে পিতার সান্নিধ্যে থেকেও মায়ের কথা মনে পড়লেই মন খারাপ করত সে। কারণ বঙ্গবন্ধুর অধিকাংশ সময় জেলে কেটেছে। এ জন্য মাকে কেন্দ্র করে তার প্রাত্যহিক জীবন গড়ে উঠেছিল। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে কামাল ও জামালের বিয়ের অনুষ্ঠানে রাসেল ওর সমবয়সিদের সঙ্গে মিলে রং খেলেছিল। বিয়ের পর সবসময় ভাবিদের পাশে ঘুরঘুর করত সে, কার কী লাগবে খুব খেয়াল রাখত। ১৯৭৫-এর ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা জার্মানিতে স্বামীর কর্মস্থলে যাওয়ার পর রাসেলের খুব মন খারাপ হয়ে যায়।
৬.
শেখ হাসিনা জার্মানি যাওয়ার সময় রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার হঠাৎ জন্ডিস হওয়ায় শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। সে কারণে বেগম মুজিব তাকে আর শেখ হাসিনার সঙ্গে যেতে দেননি। রাসেলকে যদি সেদিন তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন তা হলে তাকে আর হারাতে হতো না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে ক্ষতবিক্ষত করা হয় ছোট্ট রাসেলকে। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় শেখ রাসেলকে। তার আগে সে বারবার বলেছিল, ‘মায়ের কাছে যাব’। তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি খেতেও চেয়েছিল। মায়ের কাছে নেওয়ার নাম করেই হত্যা করা হয় শিশু রাসেলকে। মাত্র ১০ বছর ৯ মাস ২৭ দিনের স্বল্পায়ু জীবন ছিল তার। আজ জন্মদিনে তাকে আমরা স্মরণ করছিস- একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর অন্তরবেদনা, তার মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতার সম্পর্ক বোঝার জন্য। প্রাণোচ্ছল শিশু শেখ রাসেল মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছিল, বঙ্গবন্ধুর আনন্দের সঙ্গী ছিল আর বাঙালির চিরন্তন পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনে তার অনাবিল উচ্ছ্বাস ছিল অফুরন্ত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ রাসেল পিতামাতা ও অন্যদের সঙ্গে যে নিষ্ঠুরতার নির্মম শিকার হয়েছিল তা এখনও বিশ^মানবতাকে বিচলিত করে। আমরা সেই পৈশাচিকতা থেকে আলোর পথে বের হয়ে আসতে চাই। তাই স্মরণ করি শেখ রাসেলকে।
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৩৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির তিনটি অঞ্চলে গতকাল সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কয়েকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৮ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া শত শত স্থাপনা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী কিয়েভে ইরানি ‘কামিকাজ’ ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। কিয়েভে থাকা মার্কিন দূতাবাস এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে তারা ইউক্রেনের জনগণের পাশে আছে বলে টুইট করেছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রামে বলেন, ‘শেভচেনকিভস্কি এলাকায় সোমবার সকালে দফায় দফায় ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজন ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকে পড়ে আছেন।
তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এলাকাটি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল। এসব বিস্ফোরণে কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি অনাবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়।’
এদিকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শেমহাল জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের তিনটি অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এতে শত শত শহর ও গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রাশিয়া ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইউক্রেন। রাশিয়াকে এসব ড্রোন সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তবে এ ব্যাপারে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে ইইউ : ইউক্রেনের অন্তত ১৫ হাজার সেনাসদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী মাস থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
লুক্সেমবার্গে স্থানীয় সময় সোমবার ইইউভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে আরও পাঁচ কোটি ইউরোর সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে এ বৈঠক থেকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে পারেন। সেখানে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ইরানে চলমান বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষের সহিংস পদক্ষের প্রেক্ষাপটে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা করা হবে।
পাকিস্তানে উপ নির্বাচনের ভোট এক সাথে ৮ আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় লাভ করেন ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বিপরীতে দু’টি আসনে জয় লাভ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খবর হিন্দুস্তান টাইমস।পিটিআই পাকিস্তান এনএ-তে সাতটি এবং পিএ-তে তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে মসৃণ হলেও পরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই এবং আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম ডন। পিটিআই’য়ের দাবি করাচিতে দলটির আইনপ্রণেতাকে আক্রমণ করা হয়েছে। এছাড়াও করাচির একজন পোলিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে পিটিআই।
প্রসঙ্গত, এপ্রিলে পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। জাতীয় পরিষদের ৩৪২জন সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন সদস্য তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট দেন।