
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে (মিয়ানমারের নাগরিক) পাসপোর্ট প্রদান বা নবায়নের সুযোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দল। এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এনআইডিসহ যা যা লাগবে সেগুলো দেখিয়ে যারা পাসপোর্ট পাওয়া ও নবায়নের যোগ্য তাদেরকে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
রোববার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গা নাগরিকরা তিন প্রজন্ম ধরে অবস্থান করছেন। পাকিস্তান আমল থেকে তারা সেখানে আছেন। বাংলাদেশ থেকে যেসব রোহিঙ্গা নাগরিক নিজেদের ‘ম্যাকানিজমে’ বিশেষ বিবেচনায় গিয়েছিলেন তাদের বিষয়ে কী করা যায় সেটা খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের দেশে (মিয়ানমার) ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরও জোরদার করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে বৈঠকে ‘রোড টু মক্কা’ নামে দুটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যৌথভাবে দুই দেশ কিভাবে কাজ করতে পারে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল তাদের দেশে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ৬০ জন বাংলাদেশি নাগরিক চাকরি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন ও অবস্থান করছেন।

